TodayBD: Health
Showing posts with label Health. Show all posts
Showing posts with label Health. Show all posts

Friday, November 8, 2019

শীতের সেরা আকর্ষণ খেজুরের রসের কিছু উপকারী পুষ্টিগুণ


শীতকালের হাড় কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে কাঁচা খেজুরের রস খেতে পছন্দ করে অনেকে নিশ্চয়ই।
কেউ আবার এ রসকে প্রক্রিয়াজাত করে পিঠা-পুলি, পায়েস, গুড় তৈরি করে খেয়ে থাকো। সারা বছর খেজুরের রস সংগ্রহ করা যায়। তবে শীতকালের খেজুরের রসই বেশি সুস্বাদু। শীত কমার সঙ্গে সঙ্গে রসের পরিমাণও কমতে থাকে।
খেজুরের রস প্রচুর খনিজ ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। বাংলাদেশে যে খেজুর হয় তাতে যথেষ্ট শাঁস থাকে না বলে অনেকেই এটা খেতে খুব একটা পছন্দ করে না। তাই খেজুরের রসই আসল আকর্ষণ। খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড় অনিদ্রা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

খেজুরের গুড়ে আয়রন বা লৌহ বেশি থাকে এবং হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে। শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে কর্মস্পৃহা ফিরিয়ে আনতে খেজুরের রস দারুণ উপকারী।
খেজুরের রসে প্রচুর এনার্জি বা শক্তি রয়েছে। এতে জলীয় অংশও বেশি। এটাকে প্রাকৃতিক ‘এনার্জি ড্রিংক’ বলা যেতে পারে। এতে গ্লুকোজের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। খেজুরের রস কাঁচা খাওয়া যায়, আবার জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করেও খাওয়া যায়।

যারা শারীরিক দুর্বলতায় থাকে, কাজকর্মে জোর পায় না, খেজুরের রস তাদের জন্য দারুণ উপকারী। খেজুরের রস প্রচুর খনিজ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। এতে ১৫-২০% দ্রবীভূত শর্করা থাকে। খেজুরের গুড় আখের গুড় থেকেও বেশি মিষ্টি, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। খেজুরের গুড়ে প্রোটিন, ফ্যাট ও মিনারেল সবই রয়েছে।
একজন সুস্থ মানুষের ১/২ গ্লাসের বেশি রস খাওয়া ঠিক নয়। সকালে খালি পেটেও খেজুরের রস খেতে পারো, কোনো সমস্যা হবে না।
দিনের বেলা নয়, খেজুরের রস বা রসের তৈরি বিভিন্ন খাবার সকাল কিংবা রাতে খাওয়া ভালো। সকাল সকাল খেলে উপকার পাওয়া যায়। রস যেহেতু খোলা অবস্থায় সংগ্রহ করা হয় বলে এতে জীবাণু থাকতে পারে তাই হালকা আঁচে দিয়ে বা ফুটিয়ে খাওয়া উচিত।

Wednesday, November 6, 2019

সুস্বাদু জলপাইয়ের ১০ টি গুনাগুন যা জানলে আপনি অবাক হবেন

বন্ধুরা জলপাই ফলটি আমরা কম বেশি সবাই খেয়ে থাকি। জলপাইয়ের ১০টি অসাধারণ গুণাগুণ রয়েছে। নিয়মিত জলপাই খেলে পেতে পারি এমন সব উপকারিতা যেগুলো প্রতিটি স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ চায়। তাহলে দেরি না করে চলো বন্ধুরা দেখে নেই এমন কিছু উপকারিতার কথা।

⚫ কালো জলপাই ভিটামিনের ভালো উৎস। জলপাইতে আছে মনোস্যাটুরেটেড ফ্যাট। জলপাইয়ের ভিটামিন ই কোষের অস্বাভাবিক গঠনে বাধা দেয় ফলে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

⚫ যখন মানুষের হৃদপিণ্ডের রক্তনালীতে চর্বি জমে, তখন হার্ট অ্যাটাক করার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে। জলপাইয়ের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হার্ট ব্লক হতে বাধা দেয়। জলপাইয়ে রয়েছে মোনো স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা আমাদের হার্টের জন্য খুবই উপকারী।

⚫ যখন জলপাইয়ের মোনো স্যাচুরেটেড ফ্যাট অন্য খাবারে বিদ্যমান স্যাচুরেটেড ফ্যাটের বদলে গ্রহণ করা হয় তখন তা দেহের ভেতরের ফ্যাট সেলকে ভাঙতে সাহায্য করে। জলপাইয়ের তেলেও রয়েছে লো কোলেস্টেরল যা ওজন এবং ব্লাডপ্রেসার কমাতে সাহায্য করে।

⚫ জলপাই বিশেষ করে কালো জলপাই আয়রনের উৎস, আয়রন আমাদের দেহে রক্ত চলাচল করাতে সহায়তা করে, আর প্রাকৃতিক আয়রনের উৎসের জন্য জলপাই-ই সেরা।

⚫ গবেষণায় দেখা গেছে, জলপাই অ্যালার্জি প্রতিরোধে সহায়তা করে। জলপাইয়ে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা ত্বকের ইনফেকশন ও অন্যান্য ক্ষত সারাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

⚫ কালো জলপাইয়ের তেলে আছে ফ্যাটি এসিড ও এ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা কিনা ত্বক ও চুলের যত্নে কাজ করে। জলপাইয়ের ভিটামিন ই ত্বকে মসৃণতা আনে। চুলের গঠনকে আরও মজবুত করে। ত্বকের ক্যান্সারের হাত থেকেও বাঁচায় জলপাই। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ত্বকের যে ক্ষতি হয় তা রোধ করে জলপাই।

⚫ জলপাইয়ে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। ভিটামিন এ চোখের জন্য ভালো। যাদের চোখ আলো ও অন্ধকারে সংবেদনশীল তাদের জন্য ওষুধের কাজ করে।

জলপাইয়ের মনোস্যাটুরেটেড ফ্যাটে থাকে এন্টি ইনফ্লামেটরি। রয়েছে ভিটামিন ই ও পলিফেনাল। যা কিনা অ্যাজমা ও বাত-ব্যথাজনিত রোগের হাত থেকে বাঁচায়। বয়সজনিত কারণে অনেকেরই হাড়ের ক্ষয় হয়। এই হাড়ের ক্ষয়রোধ করে জলপাইয়ের তেল।

⚫ নিয়মিত জলপাই খেলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। খাবার পরিপাকক্রিয়ায় সাহায্য করে জলপাই। শুধু তা-ই নয়, গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের হাত থেকেও বাঁচায়।

⚫ সংক্রামক ও ছোঁয়াচে রোগগুলোকে রাখে অনেক দূরে। নিয়মিত জলপাই খেলে পিত্তথলির পিত্তরসের কাজ করতে সুবিধা হয়। পাথরের প্রবণতা কমে যায়। এই তেলে চর্বি বা কোলেস্টেরল থাকে না। তাই ওজন কমাতে কার্যকর। যেকোনো কাটা-ছেঁড়া, যা ভালো করতে সাহায্য করে।

⚫ জ্বর, হাঁচি-কাশি, সর্দি ভালো করার জন্য জলপাই খুবই উপকারী।

অতি সাধারণ ফল বেলের অসাধারণ উপকারীতা জেনে নিন

বেল আমাদের দেশের একটি দারুণ জনপ্রিয় ফল। অন্যান্য ফলের তুলনায় এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কোনো অংশে কম নয়।
গরমের দিনে এক গ্লাস বেলের শরবত শরীর ও মনে তৃপ্তি জোগায়। বেল পেটের নানা রকম রোগ সারাতে জাদুর মতো কাজ করে। কাঁচা বেল ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগে ওষুধ হিসেবে কাজ করে। প্রচণ্ড গরমে শরীর ও মন দুটোই ঠাণ্ডা রাখতে পারে এক গ্লাস বেলের শরবত।

বেলের পুষ্টিগুণ
⚫ বেলের পুষ্টিগুণ অন্যান্য ফলের চেয়ে অত্যন্ত বেশি। বেলের শরবত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

⚫ প্রতিদিন বেলের শরবত পান করলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিনের শারীরিক পরিশ্রমের পর এক গ্লাস বেলের শরবত সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে।

⚫ বেলের শরবত খেলে পেট ঠাণ্ডা থাকে।

⚫ পাইলস, অ্যানাল ফিস্টুলা, হেমোরয়েড রয়েছে এমন রোগীদের জন্য বেল উপকারী ফল।

⚫ বেলে আছে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি গ্রীষ্মকালীন বহু রোগ বালাইকে দূরে রাখে।

⚫ বেলে আছে ভিটামিন এ। যা চোখের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর পুষ্ট জোগায়। ফলে চোখের বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

⚫ সর্দি হলে বেল পাতার রস ১ চামচ খেলে সর্দি আর জ্বর ভাব কেটে যায়।

⚫ নিয়মিত বেল খেলে কোলন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

⚫ কচি বেল টুকরা করে কেটে রোদে শুকিয়ে নিলে তাকে বেলশুট বলে। যাদের আলসার আছে তারা বেলশুটের সাথে পরিমাণ মতো বার্লি মিশিয়ে রান্না করে নিয়মিত খেলে আলসার দ্রুত সেরে যায়।

⚫ বেল মুখের ব্রণ সারাতে সাহায্য করে।

⚫ শিশুদের কানের ব্যথা ও ইনফেকশন সারাতে বেল পাতার জুড়ি নেই। বেল পাতা ও তিলের তেল জ্বাল দিয়ে ওই তেল ড্রপার দিয়ে কানে দিলে ব্যথা সেরে যায়।

⚫ জন্ডিসের সময় পাকা বেল গোল মরিচের সাথে শরবত করে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

⚫ বেলের শাঁস পিচ্ছিল ধরনের। এমন হওয়ার কারণে এই ফল পাকস্থলীতে উপকারী পরিবেশ সৃষ্টি করে, খাবার সঠিকভাবে হজম করতে সাহায্য করে। ফলে কোষ্টকাঠিন্য দূর হয়।